|
সূচিপত্র |
চিরায়ত ছড়া ও কবিতা |
||
|
==========
|
সত্যন্দ্রনাথ দত্ত ছিন্নমুকুল
সবচেয়ে যে ছোট্ট পিঁড়িখানি সেইখানি আর কেউ রাখে না পেতে ছোট থালায় হয় নাকো ভাত বাড়া জল ভরে না ছোট্ট গেলাসেতে; বাড়ির মধ্যে সবচেয়ে যে ছোট খাবার বেলায় কেউ ডাকে না তাকে, সবচেয়ে যে শেষে এসেছিল তারি খাওয়া ঘুচেছে সব-আগে। সবচেয়ে যে অল্পে ছিল খুশি খুশি ছিল ঘেঁষাঘেঁষির ঘরে, সেই গেছে, হায়, হাওয়ার সঙ্গে মিশে, দিয়ে গেছে জায়গা খালি করে। ছেড়ে গেছে পুতুল, পুঁতির মালা, ছেড়ে গেছে মায়ের কোলের দাবি; ভয়-তরাসে ছিলো যে সবচেয়ে সেই খুলেছে আঁধার ঘরের চাবি।...
চলে গেছে একলা চুপে চুপে- দিনের আলো গেছে আঁধার ক'রে; যাবার বেলা টের পেলো না কেহ, পারলে না কেউ রাখতে তারে ধ'রে। চলে গেলো, - পড়তে চোখের পাতা,- বিসর্জনের বাজনা শুনে বুঝি! হারিয়ে গোলো- অজানাদের ভিড়ে, হারিয়ে গেলো - পেলাম না আর খুঁজি। হারিয়ে গেছে- হারিয়ে গেছে, ওরে! হারিয়ে গেছে বোল-বলা সেই বাঁশি হারিয়ে গেছে কচি সে মুখখানি, দুধে-ধোওয়া কচি দাঁতের হাসি।
আঁচল খুলে হঠাৎ স্রোতের জলে ভেসে গেছে শিউলি ফুলের রাশি, ঢুকেছে হায় শ্মশানঘরের মাঝে ঘর ছেড়ে তাই হৃদয় শ্মশান-বাসী।
সব-চেয়ে যে ছোট কাপড়গুলি সেগুলি কেউ দেয় না মেলে ছাদে, যে শয্যাটি সবার চেয়ে ছোট আজকে সেটি শূন্যে পড়ে কাঁদে, সব-চেয়ে যে শেষে এসেছিলো সে গিয়েছে সবার আগে সরে ছোট্ট যে জন ছিলো রে সব চেয়ে সে দিয়েছে সকল শূন্য করে।
|
||