|
সূচিপত্র |
চিরায়ত ছড়া ও কবিতা |
||
|
==========
|
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় নন্দলাল
নন্দলাল তো একদা একটা করিল ভীষণ পণ - স্বদেশের তরে, যা করেই হোক, রাখিবেই সে জীবন। সকলে বলিল, 'আ-হা-হা কর কি, কর কি, নন্দলাল?' নন্দ বলিল, 'বসিয়া বসিয়া রহিব কি চিরকাল? আমি না করিলে কে করিবে আর উদ্ধার এই দেশ?' তখন সকলে বলিল- 'বাহবা বাহবা বাহবা বেশ।'
নন্দর ভাই কলেরায় মরে, দেখিবে তারে কেবা! সকলে বলিল, 'যাও না নন্দ, করো না ভায়ের সেবা' নন্দ বলিল, ভায়ের জন্য জীবনটা যদি দিই- না হয় দিলাম, -কিন্তু অভাগা দেশের হইবে কি? বাঁচাটা আমার অতি দরকার, ভেবে দেখি চারিদিক' তখন সকলে বলিল- 'হাঁ হাঁ হাঁ, তা বটে, তা বটে, ঠিক।'
নন্দ একদা হঠাৎ একটা কাগজ করিল বাহির, গালি দিয়া সবে গদ্যে, পদ্যে বিদ্যা করিল জাহির; পড়িল ধন্য দেশের জন্য নন্দ খাটিয়া খুন; লেখে যত তার দ্বিগুণ ঘুমায়, খায় তার দশ গুণ; খাইতে ধরিল লুচি ও ছোকা ও সন্দেশ থাল থাল, তখন সকলে বলিল- 'বাহবা বাহবা, বাহবা নন্দলাল।'
নন্দ একদা কাগজেতে এক সাহেবকে দেয় গালি; সাহেব আসিয়া গলাটি তাহার টিপিয়া ধরিল খালি; নন্দ বলিল, 'আ-হা-হা! কর কি, কর কি! ছাড় না ছাই, কি হবে দেশের, গলাটিপুনিতে আমি যদি মারা যাই? বলো কি' বিঘৎ নাকে দিব খত যা বলো করিব তাহা।' তখন সকলে বলিল – 'বাহবা বাহবা বাহবা বাহা!'
নন্দ বাড়ির হ'ত না বাহির, কোথা কি ঘটে কি জানি; চড়িত না গাড়ি, কি জানি কখন উল্টায় গাড়িখানি, নৌকা ফি-সন ডুবিছে ভীষণ, রেলে 'কলিসন' হয়; হাঁটতে সর্প, কুকুর আর গাড়ি-চাপা পড়া ভয়, তাই শুয়ে শুয়ে, কষ্টে বাঁচিয়ে রহিল নন্দলাল সকলে বলিল- 'ভ্যালা রে নন্দ, বেঁচে থাক্ চিরকাল।'
|
||